শিশুর মেধা বিকাশের জন্য জন্মের পর থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত বাবা মায়ের করণীয় কি?
 
শিশুর জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে বলা হয় “Golden Period of Brain Development”। এই সময়ে মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% বিকাশ হয়ে যায়। তাই বাবা-মায়ের সচেতনতা এখানে সবচেয়ে জরুরি। নিচে ধাপে ধাপে করণীয়গুলো দেওয়া হলো:
 
🍼 জন্ম থেকে ৬ মাস পর্যন্ত
মায়ের বুকের দুধ: প্রথম ছয় মাস কেবলমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এতে মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান থাকে।
শিশুর প্রতি ভালোবাসা ও স্পর্শ: কোলে নেয়া, আদর করা, চোখে চোখ রাখা—এসব শিশুর মস্তিষ্কে নিরাপত্তা ও আবেগের বিকাশ ঘটায়।
শব্দ ও কথা শোনানো: গান শোনানো, মৃদু স্বরে কথা বলা শিশুর ভাষা শেখার ভিত্তি তৈরি করে।
 
👶 ৬ মাস থেকে ২ বছর
সুষম খাবার: বুকের দুধ চালিয়ে যেতে হবে অন্তত দুই বছর, সাথে ফল, শাকসবজি, ডিম, মাছ, মাংসসহ পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে।
কথা বলা ও শোনানো: গল্প বলা, নাম ধরে ডাকা, ছবির বই দেখানো—ভাষা বিকাশে সহায়তা করে।
খেলাধুলা: রঙিন খেলনা, শব্দ তৈরি করে এমন খেলনা শিশুর ইন্দ্রিয়গুলোর উন্নতি করে।
হাঁটা ও নড়াচড়া: নিরাপদ পরিবেশে হামাগুড়ি, হাঁটা শেখানো মস্তিষ্ক ও শরীরের সমন্বয় গড়ে তোলে।
 
👧 ২ বছর থেকে ৫ বছর
পড়াশোনার পরিবেশ: অক্ষর, সংখ্যা, ছবি, ছড়া শেখানো যেতে পারে আনন্দের সাথে।
সৃজনশীলতা: আঁকিবুঁকি করা, রং করা, গড়াগড়ি দেয়া, পাজল—এসব শিশুর কল্পনাশক্তি বাড়ায়।
সামাজিক দক্ষতা: অন্য শিশুদের সাথে খেলা, শেয়ার করা, ধৈর্য শেখানো—সামাজিক বুদ্ধি গড়ে তোলে।
ভাষা অনুশীলন: নিয়মিত শিশুর সাথে কথোপকথন করা। প্রশ্ন করলে উত্তর দেওয়া।
ইতিবাচক অভ্যাস গড়া: নামাজে বসানো, ধন্যবাদ দেওয়া শেখানো, শিষ্টাচার শেখানো।
 
🎯 বাবা-মায়ের বিশেষ করণীয়
সময় দেওয়া: টিভি/মোবাইলের পরিবর্তে সন্তানের সাথে সময় কাটান।
পজিটিভ পরিবেশ: মারধর নয়, বরং ভালোবাসা দিয়ে বোঝান।
ভালো অভ্যাস দেখানো: শিশুরা অনুকরণ করে শিখে। বাবা-মা যেমন হবেন, শিশুও তেমন হবে।
স্বাস্থ্য পরিচর্যা: নিয়মিত টিকা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত ঘুম।
স্ক্রিন টাইম সীমিত: ২ বছরের নিচে একদম স্ক্রিন নয়, ২–৫ বছরে দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা, সেটাও শিক্ষামূলক।
 
👉 সংক্ষেপে: ভালোবাসা, পুষ্টি, খেলা, শিক্ষা, সামাজিকতা, এবং অভ্যাস—এই ছয়টি বিষয় ঠিক রাখলেই শিশুর মেধা বিকাশ সুন্দরভাবে হয়।
 
©️ বাচ্চাদের চাহিদা l

Leave a Comment